দঃ কোরিয়া বিশেষ প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশের প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। মুসলমান-হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-আদিবাসী সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের এমন সর্বজনীন উৎসব ইতিমধ্যেই ইউনেস্কো মঙ্গল শোভাযাত্রাকে তাদের ‘ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটি’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে এটা আমাদের জন্য সুখবর বটে। তারই রেশ ধরে বরাবরের মত এবারো বাংলাদেশ দূতাবাস, সিউল নববর্ষ ১৪২৫ উদযাপন করেছে।
দেশে ১৪ এপ্রিল গত শনিবার নববর্ষ পালন করা হলেও এখানে সাপ্তাহিক ছুটির  দিন রবিবার  ১৫ এপ্রিল পালন করা হয়েছে। শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হলেও শ্রমঘন এরিয়াতে অনেকসময় সেই ছুটি থাকেনা। তাই রবিবার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এবারই প্রথমবারের মত দূতাবাস প্রাঙ্গনের বাইরে নববর্ষের অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়। সিউলের টুরিস্ট এরিয়া বলে খ্যাত  ইথেওন এলাকাতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কারনে অনুষ্ঠানটিতে কোরিয়ান নাগরিক ছাড়াও অন্যান্য দেশের নাগরিকদেরও উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত।
সকাল ১১ টায় কোরিয়াস্থ বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলামের নেতৃত্বে দূতাবাস সন্মুখ হতে দূতাবাস পরিবার, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহনে একটি আনন্দঘন মঙ্গলশোভাযাত্রা নানাবিধ ফেস্টুন, রংবেরঙ এর  জামাকাপড় পরে ইথেওন প্রদক্ষিণ করে। ভিন্ন সাজ,  ঢোল, দোতারা, বাশীর মিলিত সুরে র‍্যালিটি পথচারীদের মনোযোগের কেন্দ্র বিন্দু হয়ে ওঠে। শিশুদের রঙিন উপস্থিতি র‍্যালীটির সৌন্দর্য আরো বাড়িয়ে তোলে। প্রায় ৪০ মিনিট হেটে অনুষ্ঠাননের  নির্ধারিত স্থান নোক্সাপিয়নে গিয়ে অবস্থান করে।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই রাষ্ট্রদূত উপস্থিত সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও নিজস্বতাকে  বিদেশিদের মাঝে ছড়িয়ে দিতেই আমাদের আজকের এই প্রয়াস। শুভেচ্ছা বক্তব্য শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসো হে বৈশাখ… গানের সাথে রাষ্ট্রদূত নিজেও যখন গলা মেলালেন তখন অনুষ্ঠানটি আরো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এর পরে একে নাচ ,গান ও কবিতা চলতে থাকে যা উপস্থিত দর্শক ও পথচলতি বিদেশি অনেক নাগরিকদেও আনন্দ দিয়েছে বলে মনে হয়েছে।  বিশেষ করে বাংলাদেশি হৃদি, চৈতি, তানিসা, স্বচ্ছ  ও বিদেশিনীদের নিয়ে নাচটি সত্যি প্রশংসার দাবি রাখে।
অনুষ্ঠানটিতে গান গেয়েছে তামিম,ইফিতি,তাজিম,জাইমা,চৈতি,আশুতোষ অধিকারী দুতাবাসের প্রথম সচিব জাহিদুল ইসলাম ভুঁইয়া!  কবিতা আবৃতি করেন দূতাবাসের প্রথম সচিব ও দূতালয় প্রধান রুহুল আমিন, জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।
মিষ্টভাষী বিশিষ্ট কবি মিজানুর রহমান বুলবুল’র উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। অনুষ্ঠান শেষে  রাষ্ট্রদূত উপস্থিত সবাইকে দূতাবাসের পক্ষ থেকে খাবারের অয়োজনে অংশগ্রহণের আহবান জানান। পান্তাভাত ইলিশ ছাড়াও প্রায় ১০ প্রকার ভর্তা আর পিঠার চমৎকার স্বাদ প্রশংসার দাবি রাখে।