কান্ট্রি করেসপন্ডেন্ট, সাউথ কোরিয়া : পৃথিবীজুড়ে নারীরা যুগ যুগ ধরে শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে আছে। পরিবার ও সমাজে তাদের স্থান এখনো পুরুষের সমান নয়। পুরুষশাসিত সমাজ মনে করে পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ইস্যুতে নারীর মতামতের খুব প্রয়োজন নেই। ফলে নারী তার ন্যায্য অধিকার এখনো পায়নি। সামাজিক অবহেলার কারণে নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকারও কাক্সিক্ষত পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
শনিবার (১০ নভেম্বর) দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘প্রবাসী নারীদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক উন্মুক্ত আলোচনায় এসব কথা বলেন আলোচকরা।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা অভূতপূর্ব। জাতীয় জীবনের সকল স্তরে নারীর ক্ষমতা অর্জনে বর্তমান সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন প্রচেষ্টা ও তার ধারাবাহিক সাফল্য অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি বলেন, যেহেতু জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী সুতরাং তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ব্যতীত বাংলাদেশের উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য নারী আলোচকরা, পরিবার তথা সমাজে সিন্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ, নারী কর্মীদের কাজের সম্ভাবনা ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তাদের শিক্ষার গুরুত্ব;জাতীয় ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিতে তাদের উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোকপাত করেন।
আলোচকরা, নারীদের প্রতি আরো শ্রদ্ধা এবং সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে তাদের অবদানের মূল্যায়নের উপর জোর দেন।বিশেষত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের ইতিবাচক ভাবমূর্তি উপস্থাপনসহ রাজনীতিতে তাদের নিষ্কণ্টক প্রবেশ নিশ্চিতকরণ, নারী-বান্ধব পরিবহণ সুবিধা প্রদান, শৌচাগারের সংখ্যা বাড়ানো, নারীদের প্রতি যৌন হয়রানী রোধ ও নারীদের আইনগত অধিকার সম্বন্ধে আরো সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।
উন্মুক্ত এ আলোচনায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশী শিক্ষার্থী এবং শিক্ষিকাসহ অন্যান্য পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, নারীদের নিয়ে এ ধরণের সেমিনার আয়োজন সিউল দূতাবাসে এবারই প্রথম।

Link: CNew71.com