উন্নয়নের মহাসড়কে অভিবাসীরা সর্বাগ্রে

  ওমর ফারুক হিমেল, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ২৪ ডিসেম্বর ২০১৮, ১৪:৫৯ | অনলাইন সংস্করণ

সম্মাননা

আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ১৩ জন বাংলাদেশি ইপিএস কর্মী এবং পাঁচজন কোরিয়ান নিয়োগকর্তাকে ২৩ ডিসেম্বর সিউল দূতাবাস সম্মাননা প্রদান করে।

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে এইচ.আর.ডি কোরিয়া, কমওয়েলথ -এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন দূতাবাসের লেবার অ্যাটাশে, বাংলাদেশি ইপিএসকর্মী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিসহ প্রায় শতাধিক দর্শক উপস্থিত ছিলেন।

বর্ণিল এ আয়োজনে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার দ্বিতীয় পর্বটি অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশি পাঁচজন ইপিএসকর্মীর সমবেত কন্ঠে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্বের এ অনুষ্ঠানের শুভসূচনা করা হয়।

দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মুকিমা বেগম দিবসের তাৎপর্য সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেন। অন্যান্যদের মধ্য মি.কিম হিয়স সং, প্রতিনিধি, হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট অব কোরিয়া।

হ্যাপি রিটার্ন প্রোগামের ওপর এইচ.আর.ডি কোরিয়ার একটি উপস্থাপনা করেন রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম। তিনি সম্মাননাপ্রাপ্ত বাংলাদেশি ইপিএস কর্মীদের অভিনন্দন জানান এবং বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে তাদের সংশ্লিষ্টতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম আরো বলেন, ২০১৬ সালে সর্বপ্রথম বাংলাদেশ দায়িত্বশীল, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের জন্য গ্লোবাল কমপ্যাক্ট এর ধারণাটি বিশ্বসম্প্রদায়ের নিকট উপস্থাপন করেন।

দুবছরপর্যালোচনার পর ২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর এটি জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত হয়। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রবাসী কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

অভিবাসনের গুরুত্ব বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকার সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এ বিষয়টিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি ইপিএসকর্মীদের কর্মনিষ্ঠা, আনুগত্য এবং তাদের সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডের প্রশংসা করেন।

উল্লেখ্য, সর্বোচ্চসংখ্যক বাংলাদেশি ইপিএসকর্মী নিয়োগের জন্য পাঁচজন কোরিয়ান নিয়োগকর্তাকে সম্মাননা প্রদান করে সিউল দূতাবাস।

২০১৭-১৮ অর্থবছরে বৈধ উপায়ে সর্ব্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রেরণ, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অবস্থান, ভিসা ক্যাট্যাগরি পরিবর্তন এবং কোরিয়ান সরকার কর্তৃক সম্মাননা প্রাপ্তির জন্য মোট আঠারো জন বাংলাদেশি ইপিএসকর্মীকে সম্মাননা দেয়া হয়।

এতে দিবসের তাৎপর্যের উপর কথা বলেন দূতাবাসের কাউন্সিলর মোহাম্মদ মাসুদ রানা চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন প্রথম সচিব (দূতালয়) রুহুল আমিন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে বাংলাদেশের স্বনামধন্য অভিনয় শিল্পী মোমেনা চৌধুরী অভিনীত মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের এক বীরঙ্গনার সংগ্রামী জীবনের নাট্য প্রকাশ লাল জমিন মঞ্চস্থ হয়।

অভিনয় শিল্পী মোমেনা চৌধুরীর অনবদ্য অভিনয় দর্শকদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে একটি ভিন্ন মাত্রায় সঞ্চারিত করেছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস প্রতি বছর ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সব সদস্যভুক্ত দেশে পালিত হয়ে আসছে।

Details Link: Click Here